
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের পুত্রা হাইটস এলাকায় ১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে একটি গ্যাস পাইপলাইনের লিক থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সকাল ৮টা ১০ মিনিটে বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, এবং ৩০ মিটার উচ্চতার শিখা সৃষ্টি হয়, যা কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে দেখা যায়।
এই দুর্ঘটনায় ৩০৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। আগুনে ১৯০টি বাড়ি ও ১৫৯টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে ততক্ষণে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যায়।পেট্রোনাস, মালয়েশিয়ার জাতীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি, জানিয়েছে যে তারা পাইপলাইনের ভালভ দ্রুত বন্ধ করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে, এবং কর্তৃপক্ষ আশা করছে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং পুনর্নির্মাণের জন্য সরকারি সহায়তা ঘোষণা করেছেন। এই দুর্ঘটনা মালয়েশিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় গ্যাস বিস্ফোরণ বলে মনে করা হচ্ছে।এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়, তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে পাইপলাইনের কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের কারণে গ্যাস লিক হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন ধরার আগে তারা বিকট শব্দ শুনেছিলেন এবং কিছুক্ষণ পরই প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে।পেট্রোনাস কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করার আশ্বাস দিয়েছে। তবে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে, কারণ তারা মনে করছেন যে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল যদি আগে থেকেই পর্যাপ্ত সতর্কতা নেওয়া হতো।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিজ্ঞতা :
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ঠিক আগে প্রচণ্ড গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গিয়েছিল, যা আগুন লাগার আগেই বিপদের ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিছু প্রত্যক্ষদর্শী বলছেন, গ্যাস লিক হওয়ার পরপরই তারা হালকা আগুনের শিখা দেখতে পান, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই সেটি বিশাল বিস্ফোরণে রূপ নেয়।
একজন বাসিন্দা, ফারাহ নুর, বলেন:
“আমি রান্নাঘরে কাজ করছিলাম, হঠাৎ বাইরে প্রচণ্ড আওয়াজ শুনতে পেলাম। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি বিশাল আগুনের গোলা আকাশের দিকে উঠছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে সন্তানদের নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে দৌড় দেই।”